শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রহিম ভূট্টু (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট রাস্তার মাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক লেনদেন নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, লিটন নামে এক ব্যক্তি মাদক কেনার উদ্দেশ্যে আমজাদ নামে কথিত এক কারবারির কাছে টাকা দেন। নির্ধারিত সময়ে মাদক না পাওয়ায় টাকা ফেরত নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে চাইলে চাচাতো ভাই আল-আমিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আল-আমিনের ছোট ভাই আমির হোসেনকে সম্রাট মাঝি কৌশলে আমতলী এলাকার একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বেলাল, আমজাদ ও খোকন মাঝি তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন।
নিহতের স্বজন ফিরোজ জানান, আমির হোসেন ওই বিরোধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। হামলার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এই ঘটনার জেরে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আমিরকে মারধরের প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার বাবা রহিম ভূট্টু দালাল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলাল, আমজাদ, খোকন, সাগর ও সম্রাট কলেরহাট রাস্তার মাথায় তাকে পেছন থেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রহিম ভূট্টুকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলাম সুমন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে শশিভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহত রহিম ভূট্টুর বিরুদ্ধে পূর্বে চারটি মামলা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।